গুগল-ফেসবুকের অস্বচ্ছ নীতিতে ভুগছে মিডিয়া

 অনলাইন বিজ্ঞাপনে নিজেদের দাপট বজায় রেখেছে গুগল ও ফেসবুক। আর বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান দু’টি এ কাজ করছে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, যেটা একসময় ব্যয় করা হতো গুণগত সাংবাদিকতার জন্য।

প্রযুক্তিগত সব মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করেই চলছে এ দু’টি মাধ্যম। তাই যে সংবাদপত্রগুলো একসময় নিজেদের অবস্থান থেকে সাংবাদিকতার প্রচার ঘটাতো তাদের এখন নির্ভর করতে হচ্ছে এই দুটি বড় প্ল্যাটফর্মের উপর। এগুলোর উপর ভিত্তি করে নিজেদের সংবাদগুলো প্রচার করা হচ্ছে জনগণের কাছে, একই সঙ্গে ভুয়া সংবাদের বিরুদ্ধেও লড়াই চালাতে হচ্ছে, আর এ ভুয়া মাধ্যমগুলো তাদের সংবাদ উপাদানগুলো সরিয়েও নেয় ক্ষেত্র বিশেষ। একই সঙ্গে পোস্ট করা হচ্ছে আনন্দদায়ক সব ভিডিও।

সাংবাদিকতার প্রচার ও প্রসারে সংবাদ সংস্থাগুলোর সঙ্গে গুগল ও ফেসবুকের সব ধরনের প্রচেষ্টা রাজস্ব আয়ে গতি বাড়াচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের প্রচেষ্টায় যা তৈরি করেছে তা দিয়ে তারা নতুন পৃথিবীতে টিকে যাচ্ছে, আর দিন শেষে ওই দু’টি মাধ্যম রাজকীয় আয়েশ উদযাপন করছে। যারা সেরা সংবাদ তৈরি করছে বা সরবরাহকারী, অনুগত দাসও থেকে গেল তারাই।

অবাধ সংবাদ ও তথ্য সরবরাহের সুবাদে গুগল ও ফেসবুক থেকে প্রকাশকরা যে ফিরতি লভ্যাংশ পাচ্ছেন তা একধরনের অস্বাভাবিক সমঝোতা। তাহলে সংবাদপত্রের শিল্প বিষয়ে আমরা কি বলবো, যেটা এখন শক্তিশালী অনলাইন মাধ্যমের সঙ্গে এসে যুক্ত হচ্ছে, ক্ষমতার সমন্বয় ঘটাতে অনলাইনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একটি বড় ধরনের চাপ তৈরির জন্য।

বড় ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অধিকারের সমঝোতার জন্য কিছু সংবাদ সংস্থা এ সপ্তাহে কংগ্রেসের কাছে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে বৈধতার জন্য দায়মুক্তি চাইবে। এটা দীর্ঘ সময় শেষে সম্ভাবনার জন্য একটা পদক্ষেপ।

সংবাদ শিল্প এটাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে মনে করছে গুগল ও ফেসবুক অর্থনীতির জন্য একটা বড় ধরনের হুমকি হিসেবে কাজ করছে, যেটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অলংকৃত কথাতেও হচ্ছে না! রোববার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় এভাবেই দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত মতামতে নিউজ মিডিয়া অ্যালিয়েন্স-এর প্রধান নির্বাহী ডেভিড শেভরন এভাবেই তার মত তুলে ধরেন।

সংবাদপত্র শিল্পের অন্যতম ব্যবসায়িক গ্রুপ নিউজ মিডিয়া অ্যালিয়েন্স এ ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে। এ গ্রুপটি শুধু একাই নয়, তাদের সঙ্গে দলে ভিড়িয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ওয়াশিংটন পোস্টসহ অন্য আঞ্চলিক সংবাদপত্র যেমন স্টার ট্রিবিউন অব মিননেপোলিসকে। তারা সবাই এ বড় হুমকিকে মোকাবেলা করছে।

বর্তমান এ পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেছে নিউজ করপোরেশন গ্রুপ। গ্রুপটির তত্ত্বাবধানে রয়েছে দ্য জার্নাল, দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট এবং ডো জোনস।

এক বিবৃতিতে সমথন প্রকাশ করে গ্রুপটি বলছে, দুই বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেভাবে একক প্রাধান্য চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার জন্য সংবাদ ও তথ্য ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর বিপক্ষে জনগণ এবং কংগ্রেসকে সজাগ করার এ প্রয়াস সমর্থনযোগ্য।

নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির প্রধান নির্বাহী মার্ক থম্পসন বলেছেন, উৎকণ্ঠার মাত্রা বাড়ছেই, কিছু ক্ষেত্রে তা ক্ষোভও বাড়াচ্ছে যখন দেখা যাচ্ছে বড় দুই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রকাশকদের সম্পর্কের বৈষম্য, অসুবিধার বিষয়গুলো ধরা পড়ে।

এখন চিন্তার আসল ফল হবে এটা যে, প্রকাশকদের একসঙ্গে দলবদ্ধ হতে হবে। আর এ শক্তি যেকোনো যৌথ প্রয়াসের মাধ্যমে অর্জন করা যাবে। তাদের উচিত কার্যকরি পথের একমাত্র সুবিধাজনক এ পন্থাটিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া।

প্রযুক্তিগত এলাকায় লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য সতর্ক থাকাটা যুদ্ধের চেয়ে আরও বেশি জরুরি। বিষয়টি গুণগত সাংবাদিকতার সহিষ্ণুতার, যার প্রয়োগ দেখানো খুবই কঠিন। এটা এমন এক অর্থনৈতিক চাপের সময় যেটা এর আগে কখনও ছিলো না।

যখন ভুয়া সংবাদ ও কষ্টবিহীন প্রতিবেদন হাজারো অবৈধ ভোটের মতোই তখন এগুলো যেকোনো চুক্তি বা উদ্যেগের বিপক্ষে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে।

সংবাদের এরকম দ্বিধা-দ্বন্দময় পরিবেশে গুগল ও ফেসবুকও চাইবে না প্রকৃত সাংবাদিকতার অবমূল্যায়ন হোক। ফেসবুকের হেড অব নিউজ কেম্পবেল ব্রাউন বলেছেন, আমরা ফেসবুকে প্রকৃত সাংবাদিকতার বিকাশ চাই। আমরা সংবাদ প্রকাশকদের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে এ বিষয়ে অগ্রগতির চেষ্টা করছি। আরও অনেক কাজ করতে হবে।

এ সপ্তাহে ফেসবুকে নিউজ রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রকাশকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ফেসবুক নির্বাহী। গুগলও তাদের নিউজ ল্যাবের মাধ্যমে একই প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে। এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, প্রযুক্তিতে প্রকাশকদের অর্ন্তভুক্তির সফলতা চাই। তাদের উদ্যেগকে গুরুত্ব দিতে চাই।

ফল যাই আসুক সংবাদমাধ্যমের জন্য এ উদ্যোগই হতে পারে ভালো কিছুর সূচনা।

সুত্রঃ বাংলানিউজ

মতামত...